03/01/2018

সুখের চাবি ও দুঃখের ছবি (পর্ব – ২)

পর্ব – ২

মিনি পড়ছিস?

হ্যাঁ, মা।

একটু রান্না টা দেখবি।

কোথাও যাবে?

মুদিখানায় যেতে হবে। তেল শেষ। একশো না আনলেই নই। আর দুশো মুসুরির ডালও আনতে হবে।

ওদের দোকানে তো অনেক বাকি হয়ে গেল মা।

তোর চিন্তা কি। যা আকাঁয় কুমড়ো চড়ানো আছে।

মিনিনী মায়ের কথামতো রান্নাঘরের দিকে যায়।

* * * *

বিনীতাকে দোকানের দিকে আসতে দেখে মুদি মরুর বদলে যায়।

চোখমুখে থমথমে ভাব।

বিনীতা বলে, দাদা দুশো মুসুর ডাল দেবেন। আর বোতল টা এগিয়ে দিয়ে বলে একশো তেল।

মরুর বোতল হাতে নিল না।

আমি কি সেবাশ্রম খুলেছি। যে যখন আসছে ধারে নিয়ে যাচ্ছে। ওসব আর হবে না। পাওনা পয়সা শোধ কর তারপর মাল পাবে।

বিনীতা এরকম কথা অনেকবার শুনেছে। গা সওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু লক্ষ্য করল মরুরের চোখ মুখের ভাব আজ ভিন্ন।

দাদা, যদি-

কোন অনুনয়, বিনয় শুনতে চায়নে।

দাদা আজকের দিনটা অন্তত দিন। উনুনে তরকারি চাপানো হয়ে গেছে।

পুড়ে যাক। আমি কি করব? হবেনা বলছি হবেনা। তোমার স্বামী গাছকেটে তো ভালো পয়সা করে। সেগুলো ‘মাল’ খেয়ে ওড়ালে হবে। বোঝাও। বেঁচে থাকতে হলে টাকায় আগে দরকার।

বিনীতাকে কোনোদিন এধরনের কথা শুনতে হয়নি। মনে মনে বেশ কষ্ট অনুভব করে।

দাদা, আর যা বলবেন বলুন, ওর নামে –

একটা কথাও শুনতে চাওনা তো। শুনতে হবে না। টাকা নিয়ে এসো।

গলায় যেন কিছু একটা চেপে বসেছে। একটা কথাও বার হচ্ছে না বিনীতার মুখ থেকে। মাথা নীচু করেই (একপ্রকার) দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামে।

****

হরিহরের কাঠের বিশাল ব্যাবসা। গ্রাম গঞ্জ থেকে বড় বড় গাছ কিনে নেয়। তারই জন মোহন। গাছ কাটায় বেশ মজবুত। মোহনের সাথে আরও চার জন আছে।

হরিহরের কাঠের ব্যাবসা ক্রমশ ফুলেফেঁপে উঠেছে। যদিও কাঠুরেদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাদের মজুরি বাড়ানোর কোনো নাম গন্ধ নেই। পেটের দায়ে তবুও কাজ করতে হচ্ছে।

মোহনের দিনান্তে একশো পচাত্তর টাকা হয়। পচাত্তর টাকা চলে যায় মদ খেতে। বাজারে যে হারে জিনিসের মূল্য উত্তর – উত্তর বাড়ছে —

চারজন মানুষ একশো টাকায় দিন চলে? তার উপর ছেলেমেয়ের পড়ার খরচ, জামাকাপড় —
যদিও মেয়েটা তার ভালো। কষ্ট করে হলেও পড়াশুনার মাঝেই শাড়ির সেলাই এর কাজ করে। মা, রিং বোনায়। ধারধোরে চারপাশ থেকে লেপ্টে ধরছে।

বিনীতার যখন বিয়ে হয় তখন অব্দিও মোহন মদ ছুঁতোনা। কীভাবে যে বদভ্যাস তৈরি হল।
পড়ে থাকে রাস্তা ঘাটে। ঘরে বড় মেয়ে। নিন্দেও হয় খুব। তবুও লোকটার কোনো হেলদোল নেই। বিনীতা অনেক বুঝিয়ে ছিল। পরে নিজের কপালকেই দায়ী করেছে।

এরপর আগামী পর্বে..

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

Instagram

You Tube

"At the end of Love there is Pure Love"

Pure Love © 2018 | Privacy Policy